শরিয়াহ ও সেক্যুলার আইনব্যবস্থা: কোথায় ভারসাম্য?
ধর্মীয় শরিয়াহ আইন বর্তমান আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার আইনের কোন দিকটি নিখুঁতভাবে পূরণ করতে পারে? এর উত্তর খুঁজতে বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার আন্তঃসম্পর্কগুলো গভীরভাবে মূল্যায়নের প্রয়োজন আছে।
National Girl Child Advocacy Forum (NGCAF) রিপোর্ট বলছে, ২০২৫ সালের প্রথম ৮ মাসে প্রায় ৩৯০ জন শিশু/কিশোরী ধর্ষণ বা গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যায়; এসব ধর্ষকদের প্রত্যেকেরই একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় পরিচয় রয়েছে। ধর্ষণকারীদের বেশিরভাগের পরিচয় এরা মুসলিম।
এবার আইয়ামে জাহেলিয়াত অর্থাৎ নবী মুহাম্মদের ইসলাম প্রচারের যুগে ফেরা যাক। নবী মুহাম্মদের প্রথম স্ত্রী খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদের মৃত্যুর পরপরই শুরু হয় তাঁর যৌন জীবন। ধর্ম প্রচারের নামে একের পর এক যুদ্ধে জড়িয়ে ক্ষমতা, সম্পদ ও দখলদারিত্বসহ যৌন লালসায় মেতে ওঠেন মুহাম্মদ। একে একে ১১টি বিয়ে করেছিলেন। বাড়িতে রেখেছিলেন ২ জন যৌনদাসী। যুদ্ধবন্দিনীদের বানাতেন যৌনদাসী এবং নিজের অনুসারীদের মধ্যে দাসী ভাগাভাগি করে নিতেন, করতেন কেনাবেচাও।
এমন যৌন লালসা থেকে বাদ যায়নি শিশুও। নবী মুহাম্মদ-এর সবচেয়ে কম বয়সী স্ত্রী ছিলেন আয়েশা। বিয়ের সময় যার বয়স ছিল মাত্র ৬ বছর। যদিও বুখারির হাদিসগ্রন্থে মুহাম্মদের বিকৃত যৌন লালসা ঢাকতে বলা হয়ে থাকে, তাদের মধ্যে দাম্পত্য জীবন অর্থাৎ আয়েশার যৌনাঙ্গ নবী মুহাম্মদ উপভোগ করতে শুরু করেন ৯ বছর বয়সে।
সাম্প্রতিক সময়ে ফাঁস হওয়া সারা বিশ্বে আলোচিত নথিতে যে ধরণের যৌন বিকৃতির লোমহর্ষক চিত্র উঠে এসেছে, নবী মুহাম্মদ ছিলেন সে ক্ষেত্রে প্রাগৈতিহাসিক এপস্টিন।
নবী মুহাম্মদের মতো একজন এপস্টিনের বিকৃত যৌন লালসাগ্রস্ত ব্যক্তির দেখানো নিয়মকানুন (শরিয়াহ) আইনে রাষ্ট্র ব্যবস্থায় কিভাবে বর্তমান আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার আইন হিসেবে পরিগণিত হতে পারে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে এটি অগ্রহণযোগ্য।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোচিত ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ঢাকার মিরপুরে পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর অত্যন্ত নৃশংসভাবে ধর্ষণের পর গলাকেটে হত্যা করা হয়। এবং পোস্টমর্টেম রিপোর্টে দেখা যায় শিশু রামিসার পায়ুপথ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে আছে এবং যখমের চিহ্ন।
সারাদেশে আলোচিত হওয়া এমন একটি হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশ ফেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব, এপস্টিন নবী মুহাম্মদের অনুসারী সে মন্তব্য করে; মেয়েদের প্রথম ঋতুচক্রের পরেই বিয়ে দেওয়া হলে শিশু ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটবে না। এমন একটি পাশবিক হত্যাকাণ্ডের পর এমন মন্তব্য প্রমাণ করে মুহাম্মদের বীর্য থেকে উৎপাদিত এসব শুকরেরা শরিয়াহ আইন কেন চায়। যেখানে মানবিকতা, সহমর্মিতার জায়গায় নবী মুহাম্মদের এক ধরনের যৌনতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে যা যুগের পর যুগ ধরে চলে আসছে।
একক ধর্মীয় উৎস থেকে উৎসারিত ধর্মীয় কর্তৃত্ব কখনো সকল মানুষের মধ্যে ন্যায্যতা বিধান করতে পারে না। ধর্মে আছে উগ্রবাদ, মৌলবাদ ও চাপিয়ে দেওয়ার রীতি, যা অত্যন্ত সংঘাতপূর্ণ। নবী মুহাম্মদের যুগেও একইভাবে ইসলামের প্রসার ঘটানোর চেষ্টা করা হয়েছে যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে জিহাদের নামে। যদিও এসব যুদ্ধ ও তার অনুসারীদের জিহাদের পেছনের মূল উদ্দেশ্য ছিল অধিপত্য, সম্পদ ও নারী, যা কখনোই সমতা বিধান করতে সক্ষম নয়।
ধর্মীয় আইনব্যবস্থার ক্ষেত্রে ব্যাখ্যার বৈচিত্র্য, প্রয়োগের অসমতা এবং আধুনিক মানবাধিকারের সাথে সংঘাত দেখা যায়। বাংলাদেশসহ যেকোনো বহুত্ববাদী সমাজে আইনকে এমনভাবে গঠন করতে হয়, যেখানে ভিন্ন বিশ্বাস, ভিন্ন জীবনধারা এবং ভিন্ন রাজনৈতিক মতামত সহাবস্থান করতে পারে।